Posts

Galpo ---- আই লাভ ইউ

      (ছোটগল্প) আই লাভ ইউ              শ্যামল সরকার      মুখে হাসি ফুটল মৃনালিনীর । দিনের প্রথম হাসি ওর এটাই । উদ্যানের   ঘাসের উপর কী যেন খুঁজে পেয়েছে হঠাৎ । যা পেয়েছে তাই যেন খুঁজছিল সকালের শিশির ভেজা ঘাসে   দীর্ঘক্ষণ ধরে । দু’হাত অঞ্জলি করে ঘাসের   বুক থেকে   ধীরে ধীরে তুলল সে খুঁজে পাওয়া মহার্ঘ্য ধন পরম যত্নে ।   পরনের ছেঁড়া শাড়ীর খুঁটে বাঁধল শক্ত করে । সত্তরোর্ধ অরুনাংশুবাবু দেখতে পেয়ে অবাক গলায় জিজ্ঞেস করলেন ---- কী পেলি রে ওখানে ? ছুটে পালাচ্ছিস কেন ? বল , কী পেয়েছিস ? ময়লা বেশবাস, ভবঘুরের চেহারার মৃনালিনী আর দাঁড়াল না । দৌড়ে পালিয়ে যেতে যেতে কেবল বলল --- কয়টি শব্দ পেলাম গো, প্রিয়তম শব্দ ।       বসুন্ধরা সিটির   এই উদ্যানটি ভোর পাঁচটায় খুলে যায় প্রতিদিন ।    বেলা   আটটা পর্যন্ত মর্নিং ওয়াকারদের জন্য ফ্রি এন্ট্রি , আটটার পর থেকে প্রবেশমূল্য দশ টাকা জনপ্রতি । আটটা পর্যন্ত প্রচুর মানুষ হাঁটতে আসেন ।...

গল্পসল্প

Image
(অণুগল্প) অযাচিতা              শ্যামল সরকার      সে বহুদিন আগের কথা । তবু সবটা মনে আছে অনিরুদ্ধর । প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অক্ষর, এমনকি যাপন কথকতার পরতে পরতে মিশে থাকা প্রতিটি পুরানো অনুভব । অনুপমারও । শিলিগুড়ির ডাক্তারবাবুরা শেষ কথা বলে দিয়েছিলেন ----- অনেক দেরী হয়ে গেছে । এখন অ্যাবর্ট করলে পেসেন্ট-এর লাইফ রিস্ক হয়ে যেতে পারে । হাল ছাড়ে অনিরুদ্ধ । ফিটাস টেস্ট করে এনেছে মেচি নদীর ওপার থেকে । রিপোর্ট দেখে সবার মন খারাপ ---- এটাও মেয়ে ! দ্বিতীয়বার আর কন্যা সন্তান চায় না ও বাড়ীর কেউ । আরও ডাক্তার-বদ্যি দৌড়ে একই নিদান শুনে ওরা মুষড়ে পড়েছিল শেষমেশ । মা অনুপমার দু’চোখ দিয়ে ঝরঝর ঝরেছিল অপরাধবোধ । অনুপমা তাঁর দ্বিতীয়া মেয়ের নাম রেখেছিল অযাচিতা ।       অযাচিতা এখন প্রতিষ্ঠিতা বৈজ্ঞানিক । ভূবন জোড়া তাঁর খ্যাতি । মেয়ে জিজ্ঞেস করে মাকে --- আমার নাম অযাচিতা রেখেছিলে কেন মা ? গর্ভধারিণী আমতা আমতা করে তাকায় স্বামীর দিকে । বৃদ্ধ অনিকেতের লাজচোখ ...
একদিন               শ্যামল সরকার   একদিন মানুষ পাখীদের ভাষা বুঝবে পাখীরাও সকাল সকাল বারান্দায় এসে টকটকিয়ে বলবে ---   এত বেলা পর্যন্ত ঘুমোতে আছে ! সেদিনটা হয়ত লাখখানেক বছর দূর তারও কোটী বছর পর গাছপালার সাথে সংসার পাতবে মানুষ কিংবা প্রজাপতি একটি লাজুক মাধবীলতার সাথে যৌনসঙ্গম করবে ভাবুক কবি ঘাসের দল ফোরন কেটে বলবে ---- আমি কিছু দেখি নি অনিমেষ   একদিন মৃত্যু এসে কেঁদেকেটে বলবে                আমারও বড়ো মৃত্যুভয় হচ্ছে আজকাল
অচেনার ভিড়ে চেনা একজন                   শ্যামল সরকার পোশাক বদলে বদলে আসছ । ভাবছ চিনব না … মেঘের ঢাকায় রং হারালেও আকাশ নিস্পন্দ নির্বিকার অহংকার খাবি খায় উপেক্ষায় । হেসে ওঠে সুনীল সকাল এটুকুতেই হাঁফ ধরা বুক । পথ বহুদূর । ডাকছে আকাশ... বিপদের গন্ধ আমার চে না । গায়ের কিংবা মনের …
যতক্ষণ জেগে থাকি        শ্যামল সরকার কি যে হয় ঘুম এসে পড়ে স্তব্ধ হয় সব । ফের ঘুম ভাঙে কল কল রব । জাগরণ বুকে ধরে       পারাবার পার.... কখন নিভবে আলো       ভাবি অতঃপর....
তুমি আর আমার নেই       শ্যামল সরকার তুমি আর আমার নেই । এখন অন্য কারো তাই তোমাকে ভাবতে নেই প্রত্যাশা করতে নেই উৎকণ্ঠিত জিজ্ঞাসা কেমন আছি যখন খুব মনখারাপ করে আমি চোখ মেলে থাকি অসীম শূণ্যতায় একটু একটু করে তারাদের ফুটে ওঠা দেখি রাতের আকাশে সরিয়ে রাখি মন তোমার থেকে দূরে যেন ঐ শূণ্যতা, ওই নিঃস্পন্দ আকাশ ---- সব আমার
(কবিতা) একটু বিশ্রাম নাও        শ্যামল সরকার দীর্ঘপথ হেঁটে এলে পথিক, এবার বিশ্রাম নাও । নদীর স্রোতের মতো বিরামহীন চলা শেষে একটু জিরো্ও বন্ধু, বৃ দ্ধ অশত্থের মতো সুস্থির এই প্রাণময় নদীতীরে । একটু থামো এবার । এই জন্মের যত শোক আছে সব উড়িয়ে দাও, গোপন দুঃখ সব বলে দাও বাতাসের কানে কানে । একটু থামো, বিশ্রাম নাও । দুঃসময় বয়ে যাক--- বহুদূর যেতে হবে আরও, বাকী রয়ে গেছে বহু কাজ                           একটু বিশ্রাম নাও ---